দোয়া কবুলের গল্প
দোয়া কবুলের গল্প
যাদের দু‘আ কবুল হয়, তাদের বৈশিষ্ট ও পরিচয় (প্রায় ২০ শ্রেণির মানুষ তাঁরা)
◄◖❂◗►
■ অসহায়-নিরুপায় ব্যক্তির দু‘আ:
.
আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, ‘‘কে তিনি, যিনি নিরুপায় ব্যক্তির ডাক শুনেন, যখন সে তাঁকে কাতরভাবে ডাকে আর কে তার দুঃখ দূর করেন?’’ [সূরা নামল, আয়াত: ৬২]
.
■ মজলুম (যার উপর জুলুম করা হয়েছে) ব্যক্তির দু‘আ:
.
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘মজলুমের ফরিয়াদ থেকে সাবধান থেকো! কারণ মজলুমের ফরিয়াদ এবং আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা থাকে না (সরাসরি কবুল হয়)।’’ [সহিহ বুখারি: ১৩৯৫]
.
■ রোযাদার ব্যক্তির দু‘আ:
■ ন্যায়পরায়ণ শাসকের দু‘আ:
.
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘তিন ব্যক্তির দু‘আ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না: ইফতারের আগ পর্যন্ত রোযাদারের, ন্যায়পরায়ণ শাসকের ও মজলুমের দু‘আ।’’ [তিরমিযি: ৩৫৯৮, হাদিসটি হাসান]
.
■ এক মুসলিমের অনুপস্থিতিতে অন্য মুসলিমের দু‘আ:
.
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘কোনো মুসলিম যদি তার অনুপস্থিত (মুসলিম) ভাইয়ের জন্য দু’আ করে অথবা ক্ষমা চায়, তবে তা কবুল করা হয় এবং তার মাথার কাছে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত থাকে। যখনই কোন ব্যক্তি তার ভাইয়ের কল্যাণার্থে দু’আ করে তখন সে নিযুক্ত ফেরেশতা বলে, আমীন। অর্থাৎ- হে আল্লাহ! কবুল করুন এবং তোমার জন্য অনরূপ (অর্থাৎ তোমার ভাইয়ের জন্য যা চাইলে আল্লাহ তা’আলা তোমাকেও তা-ই দান করুন)।’’ [সহিহ মুসলিম: ২৭৩৩]
.
■ বাবা-মার জন্য নেক সন্তানের দু‘আ:
.
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যখন মানুষ মৃত্যুবরণ করে, তখন তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়; কেবল তিনটি ব্যতীত—এক. সদাকাহ্ জারিয়াহ (এমন দান, যা চলমান থাকে); দুই. এমন জ্ঞান, যা মানুষকে উপকৃত করে এবং তিন. নেককার সন্তান, যে তার জন্য দু'আ করে।’’ [সহিহ মুসলিম: ১৬৩১]
.
■ মুসাফির ব্যক্তির দু‘আ:
■ সন্তানের জন্য পিতা-মাতার দু‘আ:
■ সন্তানের বিরুদ্ধে পিতা-মাতার বদদু‘আ:
.
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘তিনটি দু‘আ কবুল হয়, তাতে কোনো সন্দেহ নেই: মজলুমের দু‘আ, মুসাফিরের দু‘আ এবং সন্তানের জন্য পিতা-মাতার দু‘আ’’ আহমাদ ও তিরমিযির বর্ণনায় আছে, ‘‘সন্তানের বিরুদ্ধে পিতা-মাতার বদদু‘আ।’‘ [বুখারি, আল-আদাবুল মুফরাদ: ৩২, হাদিসটি হাসান]
.
■ অযু করে যিকর করতে করতে ঘুমিয়ে পড়া ব্যক্তি জাগ্রত হওয়ার পর দু‘আ:
.
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘কোনো মুসলিম যদি ওযু করে আল্লাহর যিকর করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ে, তারপর রাতে ওঠে আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের কোনো কল্যাণ চায়, আল্লাহ তাকে অবশ্যই তা দেবেন।’’ [আবু দাউদ: ৫০৪২, হাদিসটি সহিহ]
.
■ ইসমে আযম দিয়ে দু‘আকারী ব্যক্তির দু‘আ:
.
বুরাইদাহ্ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন ব্যক্তিকে বলতে শুনেন—
.
ﺍَﻟﻠّٰﻬُﻢَّ ﺇِﻧِّﻲْ ﺃَﺳْﺄَﻟُﻚَ ﺃَﻧِّﻲْ ﺃَﺷْﻬَﺪُ ﺃَﻧَّﻚَ ﺃَﻧْﺖَ ﺍﻟﻠّٰﻪُ ﻟَﺎ ﺇِﻟٰﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻧْﺖَ ﺍﻟْﺄَﺣَﺪُ ﺍﻟﺼَّﻤَﺪُ ﺍﻟَّﺬِﻱْ ﻟَﻢْ ﻳَﻠِﺪْ ﻭَﻟَﻢْ ﻳُﻮْﻟَﺪْ ﻭَﻟَﻢْ ﻳَﻜُﻦْ ﻟَﻪُ ﻛُﻔُﻮًﺍ ﺃَﺣَﺪٌ
.
[মোটামুটি উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা, আন্নী আশহাদু আন্নাকা আনতাল্লাহ্, লা ইলা-হা ইল্লা আনতাল আহাদুস সমাদ, আল্লাযী লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ, ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আ‘হাদ (মূল আরবি টেক্সটের সাথে মিলিয়ে পড়ুন)]
.
অর্থ: হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার নিকট চাচ্ছি। নিশ্চয়ই আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আপনিই আল্লাহ। আপনি ছাড়া কোনো সার্বভৌম সত্তা নেই, যিনি একক, অমুখাপেক্ষী। যিনি কাউকে জন্ম দেন নি, তার থেকে কেউ জন্ম নেয়নি এবং তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই।
.
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘তুমি আল্লাহর ওই নাম নিয়ে দু‘আ করেছো, যার মাধ্যমে কিছু চাওয়া হলে তিনি তা দান করেন এবং দু‘আ করা হলে কবুল করেন।’’ [আবু দাউদ: ১৪৯৩ তিরমিযি: ৩৪৭৫, হাদিসটি সহিহ]
.
■ দু‘আ ইউনুস দিয়ে দু‘আকারীর দু‘আ:
.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যুন্নুন (ইউনুস আ.) মাছের পেটে দু‘আ করেছিলেন—
ﻟَﺎ ﺇِﻟٰﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻧْﺖَ ﺳُﺒْﺤٰﻨَﻚَ ﺇِﻧِّﻲْ ﻛُﻨْﺖُ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻈّﺎﻟِﻤِﻴْﻦَ
—কোনো মুসলিম যে বিষয়েই এভাবে (আল্লাহকে) ডেকেছে, তিনি তার ডাকে সাড়া দিয়েছেন।’’ [তিরমিযি: ৩৫০৫, হাদিসটির সনদ সহিহ]
.
■ হজ্ব আদায়কারীর দু‘আ
■ উমরাহ্ আদায়কারীর দু‘আ
■ আল্লাহর রাস্তায় জিহা.দকারীর দু‘আ
.
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘আল্লাহর রাস্তায় জিহা.দকারী, হজ্ব আদায়কারী ও উমরাহ্ পালনকারী—তারা হলেন আল্লাহর প্রতিনিধি; তিনি তাদের ডেকেছেন আর তারা তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছেন। (সুতরাং) তারা আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে, তিনি তাদের দেবেন।’’ [ইবনু মাজাহ: ২৮৯৩, হাদিসটি হাসান]
.
■ আল্লাহকে অধিক পরিমাণ স্মরণকারীর দু‘আ কবুল করা হয়। [মুসনাদ বাযযার, হাদিসটি হাসান]
.
■ আল্লাহর ওলির দু‘আ কবুল হয়। (হাদিসটি আমরা আজ রাতেই পোস্ট করেছি। পূর্বের পোস্টটি পড়ে নিন)। [সহিহ বুখারি: ৬৫০২]
.
■ ইফতারের সময় রোযাদারের দু‘আ কবুল হয়। [তিরমিযি: ২৫২৬, ইবনু মাজাহ: ১৭৫৩, হাদিসটি সহিহ]
.
■ রাতের শেষাংশে ও ফরজ নামাজসমূহের পর দু‘আকারীর দু‘আ কবুল হয়। [তিরমিযি: ৩৪৯৯, হাদিসটি হাসান]

No comments