Header Ads

Header ADS

মৃত্যু নিকটবর্তি হওয়ার ৬টি লক্ষন কিভাবে বুঝবেন?

মৃত্যু নিকটবর্তি হওয়ার ৬টি লক্ষন কিভাবে বুঝবেন?

মানুষের মৃত্যুর পূর্বে ৬ টি লক্ষন রয়েছে সেগুলো নিম্নে তুলে দরা হলোঃ

প্রথম ধাপ ইয়াউমুল মাউতঃ-

এই দিনেই মানুষের জীবনের সমাপ্তি ঘটবে, হায়াত ফুরিয়ে যাবে। আল্লাহ ফেরেশতাদের নির্দেশ দিবেন জমিনে গিয়ে রুহু কবজ করে নিয়ে আসতে। দুঃখজনক হলেও সত্য, কেউ এই দিন সম্পর্কে জানেনা। এমনকি যখন এইদিন চলে আসবে সেইদিন ও সে জানবে না আজ তার মৃত্যুর দিন।
মৃত্যুর বিষয়টি উপলব্ধি না করা সত্বেও দেহে কিছু পরিবতর্ন অনুভব করবে। মুমিনের অন্তরে প্রশান্তি অনুভব হবে আর পাপিষ্ঠ বুকে খুব চাপ অনুভব করবে। এই স্তরে শয়তান এবং দুষ্ট জীন ফেরেশতাদের নামতে দেখবে। কিন্তু মানুষ তাদের দেখবেনা। এই পদক্ষেপটি কোরআনে বর্ণিত হয়েছে।

 

وَاتَّقُواْ يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللّهِ ثُمَّ تُوَفَّى كُلُّ نَفْسٍ مَّا كَسَبَتْ وَهُمْ لاَ يُظْلَمُونَ
ঐ দিনকে ভয় কর, যে দিন তোমরা আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে। অতঃপর প্রত্যেকেই তার কর্মের ফল পুরোপুরি পাবে এবং তাদের প্রতি কোন রূপ অবিচার করা হবে না।
সূরা বাক্বারা-২৮১

 



 মৃত্যুর দ্বিতীয় ধাপঃ

এই ধাপে রুহু পায়ের পাতা থেকে আরোহন শুরু করে গোছা হাটুঁ নাভি পেট ও বুকের উপর হয়ে মানব দেহের দুই সিনার “তারাক্বী” নামক স্থানে পোঁছে যায়। এই সময় মানুষ ক্লান্তি অস্তিত্ব অনুভব করে। তখনও তিনি জানেনা যে তার রুহ বের হয়ে যাচ্ছে। আল্লাহু আকবর।

মৃত্যুর তৃতীয় ধাপঃ 

এই ধাপের নাম “তারাক্বী” কোরআনে এই স্তরের কথা বর্ণনা করা হয়েছে এভাবেঃ

كَلَّا إِذَا بَلَغَتْ التَّرَاقِيَ. وَقِيلَ مَنْ رَاقٍ.  وَظَنَّ أَنَّهُ الْفِرَاقُ. وَالْتَفَّتِ السَّاقُ بِالسَّاقِ
কখনও না, যখন প্রান কণ্ঠাগত হবে। এবং বলা হবে, কে ঝাড়বে। এবং সে মনে করবে যে, বিদায়ের ক্ষন এসে গেছে’। পায়ের গোছা অন্য গোছার সাথে জড়িয়ে যাবে।
সূরা কিয়ামাহ-২৬-২৯

 

তরাক্কি হলো মানুষের কন্ঠনালির নিচে ২ কাধ পর্যন্ত বিস্তৃত হাড়কে। এরপর তার পায়ের একটি গোছা অন্য আরেকটি গোছার সাথে জড়িয়ে যাবে।

(وَظَنَّ أَنَّهُ الْفِرَاقُ তখন সে বুঝে যাবে তার বিদায়ের সময় হয়ে গেছে)

তখন রুগির এই অবস্থা দেখে কেউ বলবে এম্বুলেন্স ডাকো আবার কেউ বলবে কোরআন পড়ে তাকেঝাঁড়ফুক দিতে তখনও সে বিশ্বাস করতে চাইবেনা যে তার রুহ তার দেহ ত্যাগ করছে। তখও সে জীবনে ফিরে আসার চেষ্টা করবে কিন্তু তাতে কোনো লাভ হবেনা কারণ মৃ*ত্যুর বিষয় এখন চুড়ান্ত। কারণ রুহ পায়ের গোছাদ্বয় থেকে বেরিয়ে এসে তরাক্কি নামক স্থানে পোঁছে গেছে পায়ের একটি অন্য গোছার সাথে জড়িয়ে গেছে।

মৃত্যুর চতুর্থ ধাপঃ  

অতঃপর আসবে চতুর্থ ধাপ। এই ধাপের নাম হুলক্বুউমঃ- মৃত্যুর এটাই শেষ স্তর এবং মানুষের জন্য চূড়ান্ত পর্যায়ের কঠিন স্তর। এই সময় তার চোখের পর্দা সরিয়ে দেওয়া হবে। এবং সে চারপাশে উপস্থিত ফেরেশতাদের দেখতে পাবে। এখান থেকেই আখেরাত দর্শনের স্তর শুরু হবে।

 

لَقَدْ كُنتَ فِي غَفْلَةٍ مِّنْ هَذَا فَكَشَفْنَا عَنكَ غِطَاءكَ فَبَصَرُكَ الْيَوْمَ حَدِيدٌ
তুমি তো এই দিন সম্পর্কে উদাসীন ছিলে। এখন তোমার কাছ থেকে যবনিকা সরিয়ে দিয়েছি। ফলে আজ তোমার দৃষ্টি সুতীক্ষ্ন।
সূরা ক্বফ
আয়াত নং-২২

এই স্তরকে হুলক্বুউম নামকরণ করা হয়েছে আল্লাহর কালামের কারনে:

فَلَوْلَا إِذَا بَلَغَتِ الْحُلْقُومَ . وَأَنتُمْ حِينَئِذٍ تَنظُرُونَ . وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنكُمْ وَلَكِن لَّا تُبْصِرُونَ
অতঃপর প্রান যখন কণ্ঠাগত হয় তখন তোমরা তাকিয়ে থাক। তখন আমি তোমাদের অপেক্ষা তার অধিক নিকটে থাকি; কিন্তু তোমরা দেখ না।
সূরা ওয়াকিয়াহ ৮৩-৮৫

 

আল্লাহ তার চতুর্পাশে উপস্থিত ব্যক্তিদের সম্বোধন করে বলছেনঃ- তোমরা যেখানে আছো সেও সেখানেই আছে। সে যা দেখতে পাচ্ছে তোমরা তা দেখতে পাচ্ছ না। হয়তো সে আল্লাহ তাআলার রহমত দেখছে অথবা মাআ’যাল্লাহু আল্লাহর আজাব এবং গজব দেখছে যদি সে পাপী হয়
এজন্যই আপনারা তাকে দেখবেন নির্দিষ্ট একটি জায়গা এবং এক বিন্দুতে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে।

وَنَحْن أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْكُمْ وَلَكِنْ لَا تُبْصِرُونَ
অর্থাৎ আমি তোমাদের অপেক্ষা তার অধিক নিকটতর কিন্তু তোমরা তা দেখতে পাও না।

 

মানুষের রুহ কবজ এর সময়টা জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত। কেননা তখন সে আল্লাহর সকল প্রতিশ্রুতি ও ভীতি দেখতে পায়। ফেরেশতাদের দেখতে পায়। জীবনে যত আমল করেছে তা চোখের সামনে ভাসতে থাকে। আর এই অবস্থায় মৃত্যুর ফেতনা ঘটে যায়। শয়তান এই ফেতনায় প্রবেশ করে এবং আকিদায় সন্দেহ সৃষ্টি করতে থাকে। আল্লাহর ব্যাপারে, নবীর ব্যাপারে, দ্বীনের ব্যাপারে ও কোরআনের ব্যাপারে সন্দেহ সৃষ্টি করতে থাকে তার অন্তরে। এবং সে তার সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করতে থাকে যেন সে কাফের হয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়। এইসময় শয়তান নিশ্চিত যে এটা এই মানুষটির শেষ মুহূর্ত এবং মালাকুল মাউত তার নিকটবর্তী। এইজন্য সে তার অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী চূড়ান্ত আঘাত হানতে থাকে। এজন্যই কোরআন আমাদের মৃত্যুর ফেতনা থেকে আল্লাহর আশ্রয় নিতে বলছেঃ

وَقُل رَّبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ . وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَن يَحْضُرُونِ
আপনি বলুন ;হে আমার রব! আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি শয়তানের প্ররোচনা থেকে। এবং আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি তাদের উপস্থিতি থেকে।


সূরা মুমিন- ৯৭-৯৮

 

তুমি যদি ইসলাম অনুযায়ী তোমার জীবন পরিচালিত করো এবং তোমার অন্তরে আল্লাহ তার রাসুল এর ভালোবাসা থাকে তাহলে তুমি এই অবস্থায় দুনিয়া থেকে বের হবে। মৃত্যুর শেষ মুহূর্ত যখন চলে আসবে তখন শয়তান তার কোন একজন নিকটাত্মীয়ের আকৃতিতে উপস্থিত হবে যিনি আগেই মারা গেছেন। সে উচ্চকণ্ঠে চিৎকার করে বলবে; আমি তোমার পূর্বে মারা গিয়েছি। ইসলাম সত্য ধর্ম নয় এবং নবী সত্য দ্বীন নিয়ে আসেননি। এবং অবশ্যই তোমাকে বলবে তুমি সব কিছু অস্বীকার করো।


এই পরিস্থিতির চিত্র আল্লাহ কোরআনে বর্ণনা করেনঃ

 

كَمَثَلِ الشَّيْطَانِ إِذْ قَالَ لِلْإِنسَانِ اكْفُرْ فَلَمَّا كَفَرَ قَالَ إِنِّي بَرِيءٌ مِّنكَ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ رَبَّ الْعَالَمِينَ
তাদের তুলনা হচ্ছে শয়তান যখন সে মানুষকে বলবে তুমি কুফরি করো ।যখন মানুষ কুফরি করবে তখন শয়তান বলবে; তোমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নাই ।আমি বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি।
সূরা হাশর- ১৬


মৃত্যুর পঞ্চম ধাপঃ

এরপর হলো ৫ম ধাপ যার নাম হলো মালাকুল মাউত যেখানে আযরাইল (আঃ) আসবে তখন সে ব্যক্তি তার আমলের ফলাফল দেখতে পাবে পুরোপুরি বুঝতে পারবে সে জান্নাতি নাকি জাহান্নামি সে তার পরিণতি সম্পর্কে জানতে পারবে।

وَالنَّازِعَاتِ غَرْقًا
শপথ সেই ফেরেশতাদের যারা নির্মমভাবে(রুহ) টেনে বের করে।
সূরা নাযিয়াত-০১

জাহান্নামে একদল ফেরেশতা থাকবে যারা আগুনের কাফন প্রস্তুত করে এবং খুব নির্দয়ভাবে পাপী ব্যক্তির রুহ কবজ করে। আরেকটি আয়াতে এই কঠিন পরিস্থিতির চিত্র বর্ণিত হয়েছেঃ-

 

فَكَيْفَ إِذَا تَوَفَّتْهُمْ الْمَلَائِكَةُ يَضْرِبُونَ وُجُوهَهُمْ وَأَدْبَارَهُمْ
ফেরেশতারা যখন তাদের মুখমন্ডল এবং পৃষ্ঠদেশে আঘাত করতে করতে তাদের প্রাণ হরণ করবে তখন তাদের কী দশা হবে ?
সূরা মোহাম্মদ-২৭

 

মৃত্যুর ষষ্ট ধাপঃ

এরপর শুরু হবে ষষ্ঠ ধাপ এই ধাপে রুহু প্রস্তুত হয়ে তরাক্কি নামক স্থান থেকে বের হয়ে আযরাইল (আঃ) এর নিকট আত্নাসমার্পনের জন্য সর্বচ্চো স্তরে নাকে মুখে অবস্থান করবে বান্দা যদি পাপী তাহলে আযরাইল বলবে হে নিকৃষ্ট আত্মা তুই আগুন এবং জাহান্নামের জন্য বের হ। বের হ রাগান্বিত ও প্রতিশোধ পরায়ন রবের উদ্দেশ্য তখন তার চেহেরা কালো হয়ে যাবে এবং

حَتَّى إِذَا جَاء أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ رَبِّ ارْجِعُونِ

সে বলবে হে আল্লাহ আমাকে আবার পাঠাও এবং ভালো কাজ করার আরো একটা সুযোগ দাও যা আমি পূর্বে করিনি

সূরা মুমিন-৯৯

তখন আল্লাহ বলবেন হে পাপী অনেক সুযোগ পেয়েছো তুমি এখন আর কোনো লাভ নেই তোমার সময় শেষ হয়ে গেছে। তখন ওই চারজন ফেরেশতা তার মুখে শিকল দিয়ে আঘাত করতে করতে তার দেহ থেকে রুহ টেনে বের করবে আর যদি মুমিন হয় তাহলে বলবে হে পবিত্র আত্মা তুমি তোমার মহান প্রতিপালকের দয়া ও ক্ষমা গ্রহন কর এবং বেরিয়ে আসো জান্নাতের উদ্দেশ্য তখন ওই আত্মা এতোটা আরামে বের হবে যে সে বুঝতেও পারবেনা তার রুহ দেহ ত্যাগ করেছে যেমন করে আটা থেকে একটি চুল টেনে বের করা হয় সুবহানাল্লাহ তখন থেকেই শুরু হবে তার বরযাখ এর জীবন হে মুমিনগণ এখন সময় আছে ফিরে আসুন আল্লাহর পথে তিনি আপনাকে ক্ষমা করে দিবেন তওবা করুন নিজের করা পাপের জন্য। না হলে আল্লাহর আযাব থেকে কেউ আপনাকে বাচাতেও পারবেনা তখন আর কোনো উপায়ও থাকবেনা । তাই এখনো সময় আছে সঠিক পথে ফিরে আসুন আপনার পাপ যদি আকাশ পরিমানও হয় আপনি চিন্তা করবেন না তওবা করুন সিজদায় পড়ে যান দুই ফোটা চোখের পানি ফেলুন আল্লাহর দরবারে ইনশাল্লাহ আপনার সেই চোখের পানি মাটিতে পড়ার আগে আল্লাহ তায়ালা সেই পানি দিয়ে আপনার সকল পাপ তিনি ক্ষমা করে দিবেন ইনশাআল্লাহ।


No comments

Powered by Blogger.